Belayet Media
জান্নাতে যেতে হলে জানতে হবে
এক্সপ্লোর
দ্রুত অ্যাক্সেস
নবুওয়াত থেকে আধুনিক যুগ — ইসলামের ঐতিহাসিক মাইলফলক
مَبعَث النَّبِيّ
হযরত মুহাম্মদ (সা.) হেরা গুহায় প্রথম ওহি লাভ করেন। জিব্রাইল (আ.) "ইকরা" শব্দের মাধ্যমে নবুওয়াতের সূচনা করেন। এই দিনটি ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
2জন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট
الهِجرَة إلى المَدِينة
মক্কার কাফিরদের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে রাসূল (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। ইমাম আলী (আ.) রাসূলের বিছানায় শুয়ে জীবন ঝুঁকিতে রাখেন। এই ঘটনা থেকে ইসলামী বর্ষপঞ্জি গণনা শুরু।
غَزوَة بَدر
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বড় যুদ্ধ। ৩১৩ জন মুসলমান ১,০০০ কাফিরের বিরুদ্ধে জয়ী হন। ইমাম আলী (আ.) এই যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব দেখান।
3জন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট
غَزوَة أُحُد
উহুদ পাহাড়ের কাছে এই যুদ্ধে মুসলমানরা প্রথমে এগিয়ে থেকেও কুচক্রের কারণে পিছু হটেন। রাসূল (সা.) আহত হন। হামযা (রা.) শহীদ হন।
غَزوَة الخَنْدَق
সালমান ফারসির পরামর্শে পরিখা খনন করে মদিনা রক্ষা। ইমাম আলী (আ.) আমর ইবনে আবদ ওয়াদকে পরাজিত করেন — রাসূল (সা.) বলেন: "এই আঘাত সকল মানুষের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"
صُلح الحُدَيبِيَّة
মক্কার পথে মুসলমানদের আটকে দেওয়া হলে এই সন্ধি হয়। কুরআন একে "সুস্পষ্ট বিজয়" বলে আখ্যায়িত করে — দুই বছর পরে মক্কা বিজয় হয়।
فَتح مَكَّة
বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয়। রাসূল (সা.) কাবার ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করেন এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। বিলাল (রা.) কাবার ছাদে আযান দেন।
حَادِثَة غَدِير خُم
বিদায় হজের পর রাসূল (সা.) ১,২০,০০০ সাহাবির সামনে ইমাম আলীর হাত ধরে বলেন: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা।" এই ঘটনা শিয়া ইসলামের কেন্দ্রীয় দলিল।
وَفَاة النَّبِيّ
রাসূল (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলামের ইতিহাস দুই ধারায় বিভক্ত হয়। সাকিফায় গোপন বৈঠকে আবু বকরকে খলিফা ঘোষণা করা হয় — যখন ইমাম আলী ও ফাতিমা (আ.) রাসূলের গোসল দিচ্ছিলেন।
4জন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট
سَقِيفَة بَنِي سَاعِدَة
রাসূলের ওফাতের দিনই সাকিফায় গোপন বৈঠকে আবু বকরকে খলিফা নির্বাচন করা হয়। শিয়া মতে এটি ছিল ইমাম আলীর বৈধ অধিকার লঙ্ঘন এবং গাদিরের ঘোষণার বিপরীত।
قَضِيَّة فَدَك
রাসূল (সা.) ফাদাক বাগান ফাতিমা যাহরাকে দিয়েছিলেন। আবু বকর তা বাজেয়াপ্ত করলে ফাতিমা (আ.) মদিনার মসজিদে ঐতিহাসিক "খুতবায়ে ফাদাকিয়্যা" দেন।
شَهَادَة فَاطِمَة الزَّهرَاء
রাসূলের ওফাতের ৯৫ দিন পর ফাতিমা যাহরা (আ.) শাহীদ হন। ইতিহাসে এই শাহাদাত ইসলামের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলির একটি। তাঁর কবরস্থান অজ্ঞাত রাখার ওসিয়ত ছিল।
مَعرَكَة الجَمَل
ইমাম আলীর খেলাফতের বিরুদ্ধে আয়েশা, তালহা ও যুবায়েরের নেতৃত্বে বিদ্রোহ। উটের চারপাশে যুদ্ধ হওয়ায় "জামালের যুদ্ধ" নামে পরিচিত। ইমাম আলী জয়ী হন।
مَعرَكَة صِفِّين
মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে ইমাম আলীর যুদ্ধ। মুয়াবিয়ার সৈন্যরা কুরআন বর্শায় গেঁথে যুদ্ধবিরতি দাবি করে। আম্মার ইবনে ইয়াসির এই যুদ্ধে শহীদ হন।
صُلح الإمَام الحَسَن
মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুসলমানদের রক্তক্ষয় রোধ করতে ইমাম হাসান সন্ধি করেন। এটি দুর্বলতা নয় — উম্মাহ রক্ষার কৌশল ছিল। পরে মুয়াবিয়া সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করেন।
شَهَادَة أَمِير المُؤمِنِين
কুফার মসজিদে ফজরের নামাযে ইবনে মুলজিমের বিষাক্ত তরবারির আঘাতে ইমাম আলী (আ.) শাহীদ হন। তিনি বলেছিলেন: "কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়েছি।"
1জন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট
يَوم عَاشُوراء — مَعرَكَة كَربَلاء
ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিন। ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর ৭২ সঙ্গী কারবালার মরুভূমিতে শহীদ হন। শিশু আলী আসগারসহ পুরুষ সদস্যরা নিহত হন, নারী ও শিশুরা বন্দি হন।
7জন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট
زِيارَة الأَربَعِين
কারবালার শাহাদাতের ৪০ দিন পর যায়নাব ও ইমাম যায়নুল আবিদিন কারবালায় ফিরে আসেন। আরবাঈনের হাঁটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সমাবেশ।
خُطبَة السَّيِّدَة زَيْنَب في الكُوفَة
কারবালার পরদিন বন্দি অবস্থায় কুফার জনসমুদ্রে যায়নাব (আ.) সিংহিনীর মতো ভাষণ দেন। তিনি কুফাবাসীদের বিশ্বাসঘাতকতার মুখোশ উন্মোচন করেন।
مَجلِس يَزِيد في الشَّام
ইয়াযিদের দরবারে যায়নাব (আ.) ও ইমাম যায়নুল আবিদিনের ঐতিহাসিক ভাষণ। ইয়াযিদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে সত্য প্রকাশ করা হয়।
ثَورَة التَّوَّابِين
কারবালায় ইমাম হুসাইনকে একা ছেড়ে যাওয়া কুফার মুসলমানরা অনুতাপে "তাওয়াবিন" বা তওবাকারী হিসেবে বিদ্রোহ করেন। উমাইয়্যা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হন।
الغَيبَة الصُّغرى
ইমাম মাহদির ছোট গাইবাতের যুগ — ৬৭ বছর। এই সময় চারজন নায়েব (উসমান ইবনে সাঈদ, পুত্র মুহাম্মদ, হুসাইন ইবনে রূহ, আলী ইবনে মুহাম্মদ সামারি) ইমামের সাথে যোগাযোগ করতেন।
الغَيبَة الكُبرى
চতুর্থ নায়েবের মৃত্যুর সাথে বড় গাইবাত শুরু। এখন থেকে মুমিনরা মারজায়ে তাকলিদের মাধ্যমে ইসলামী বিধান পরিচালনা করেন। যুহুরের অপেক্ষা জারি।
الثَّورَة الإِسلَامِيَّة الإِيرَانِيَّة
আয়াতুল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইরানে ইসলামি বিপ্লব। পহলভি রাজতন্ত্রের পতন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। বিশ্বব্যাপী শিয়া ইসলামের নবজাগরণ।
انتفاضة الشعبان ١٩٩١
ইরাকের শিয়া মুসলমানদের বিদ্রোহ সাদ্দামের বিরুদ্ধে। কারবালার পবিত্র মাযার ধ্বংস করা হয়। হাজার হাজার শিয়া মুসলমান শহীদ হন।
تَفجِير مَرقَد العَسكَرِيَّين
ইরাকের সামাররায় ইমাম হাদি ও ইমাম আসকারির মাযারের গম্বুজ বোমায় ধ্বংস করা হয়। এই হামলা ইরাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঢেউ তোলে।
مَسِيرَة الأَربَعِين العَالَمِيَّة
কারবালায় আরবাঈনের হাঁটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ — ২-৩ কোটি মানুষ। নাজাফ থেকে কারবালা ৮০ কিলোমিটার পথ হাঁটেন তীর্থযাত্রীরা।